বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ২৩ কোটি ২২ লাখ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। বিশ্বে করোনায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ কোটি ২২ লাখের বেশি মানুষ। আর মারা গেছেন ৪৭ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ। এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২০ কোটি ৮৮ লাখের বেশি মানুষ। রোববার সকাল সাড়ে ১১ টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, রোববার সকাল সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত বিশ্বে মোট করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে মোট ২৩ কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ জন। আর এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট ২০ কোটি ৮৮ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫৪ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ হাজার ৯৩৩ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে প্রায় আড়াই হাজার। একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে দৈনিক মৃত্যুতে সবার ওপরে রয়েছে রাশিয়া। এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এখনও সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ হাজার ১১৪ জন এবং মারা গেছেন ৭৬৫ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৮ জন মারা গেছেন।

সংক্রমণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৫৮ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ১৪৯ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ২২১ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৮ জন।

সংক্রমণের ওই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৪৮ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৮৮ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৪৬ জনের।

এদিকে বিশ্বে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৮২২ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২২ হাজার ৪১ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৯৫ জনের।

অন্যদিকে বিশ্বে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। গত ২৪ ঘণ্টায় মেক্সিকোতে মারা গেছেন ৫৬৪ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১০ হাজার ১৩৯ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ১১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭০৩ জনের।

অপরদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২৩ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। অন্যদিকে একই সময়ের মধ্যে ইরানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯০ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৪৩ জন।

এদিকে সংক্রমণের তালিকায় এখন বাংলাদেশের অবস্থান ২৮ নম্বরে। দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৭১ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২৭ হাজার ৩৯৩ জন। আর ১৫ লাখ দশ হাজার ১৬৭ জন সুস্থ হয়েছেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এখন পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ২৬১ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২৬ হাজার ১০৯ জন। আর করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ১৪ লাখ ২১ হাজার ৮৮৩ জন।

করোনা প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। ওই বছরেরই ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংক্রমণ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ইউরোপের কিছু দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশগুলোতে চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হয়। এর বিপরীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে ভারতসহ এশিয়ার কিছু দেশে। তবে ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশের অবস্থা আবারও খারাপ হচ্ছে।

এরই মধ্যে অব্যাহতভাবে টিকাদান চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশ। কোনো কোনো দেশ টিকার বুস্টার ডোজ এবং শিশুদেরও টিকা দেওয়া শুরু করেছে। সূত্র : ওয়ার্ল্ডোমিটার