জনপ্রিয় হচ্ছে ভাসমান বেডে সবজি চাষ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২১

ভাসমান বেডে সবজি ও মসলার চাষ। কোন এক সময় এমন সবজি চাষ ছিল উপকূলীয় অঞ্চল ঝালকাঠি জেলার কৃষকদের স্বপ্ন। বর্তমানে কৃষকের সেইস্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ভাসমান বেডে নানান সবজি, মসলা রোপণ করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

জেলাটি নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এঅঞ্চলের বহু জমি পানিতে ডুবে যায়, নষ্ট হয়ে যায় কৃষকের তৈরিকৃত বীজতলা। কৃষি বিভাগ নিজেদের উদ্যোগে কৃষকদেরকে কলাগাছের ভেলা এবং কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে দিচ্ছে। ভাসমান এসব বেডে চাষ করা হচ্ছে লাল শাক, মুলা শাক, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁরস সহ বিভিন্ন প্রকার সবজি ও মসলা।

প্রতিটি বেডে বছরে ৬ থেকে ৭ বার সবজীর চাষ করা যায়। একইসাথে বেডের জলে মাছ চাষ করছে অনেকে। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ লাভ জনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে বাড়ছে আগ্রহ। অনেকে বেডে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে মুনাফাও অর্জন করেছেন।

কৃষক সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘কৃষি অফিসের সহযোগিতায় গত দু’বছর ধরে আমি ভাসমান বেডে সবজীর চাষ করে আসছি। এখানে লালশাক, মুলা, ঢেঁড়স সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলার চাষ করি’। কৃষক সালেহ আহম্মেদ আরো বলেন, এ চাষে আমি খুব লাভবান হচ্ছি কারন বেড পদ্ধতির চাষে তেমন কোন খরচ নেই।

বেড তৈরির কৌশল কি তা জানতে চাইলে কৃষক মোকসেদ আলী বলেন, প্রথমে পানির উপরে কলাগাছ অথবা বাঁশ বিছিয়ে বেড তৈরি করি। তার উপর কচুরিপানা তুলে বেড প্রস্তুত করা হয়। আর কচুরিপানা পচিয়ে তার উপরেই বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকি।

তিনি আরো জানান, বর্ষা বা বন্যার পানি যতই হোকনা কেনো বেডের উপরে রোপনকরা সবজি চারার কোন ক্ষতি হয়না। বেড পদ্ধতির আরেকটি গুন হচ্ছে, এতে কোন প্রকার সার এবং কীটনাশকও দিতে হয়না।

বেড কৃষকরা বলছেন, এক একটি বেডে বছরে ৭ থেকে ৮ বার সবজি চাষ করা যায়। এ ধরনের সবজি চাষে খুবই লাভবান হওয়া যায়। বর্তমানে অনেকেই বেড পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, এই জেলার চাষাবাদের জমি অন্য জমির তুলনায় বেশ নিচু হওয়ায় বর্ষায় পানিতে ডুবে থাকে, তাই বেড পদ্ধতিতে কৃষিকাজে লাভের মুখ দেখবেন চাষিরা জলাবদ্ধ ও বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষকরা এধরনের ভাসমান বেডে সাড়া বছরই সবজি চাষ করতে পারেন। ঝালকাঠিতে বর্তমানে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে ১৩৭ টি ভাসমান বেড রয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে তাদেরকে সব সময় পরামর্শ সহ সকল প্রকার সহযোগিতা করে যাচ্ছে।