মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ সৈন্য নিহত

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২১

মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটির সামরিক বাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন বাহিনীর আরও কিছু সদস্য। দেশটির সাগাইং অঞ্চলে হওয়া সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৩ অক্টোবর) প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বিরোধী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের গ্রুপ পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) সদস্যদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, মান্দালাই শহরের ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরাবতী নদীর তীরে অবস্থিত সাগাইং অঞ্চলে বার্মিজ সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। ভয়াবহ এই সংঘর্ষে ৩০ জন সৈন্য নিহত হন।

পিডিএফের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গেল সোমবার সকালে হওয়া ওই সংঘর্ষের সময় পেল শহরের বাইরে বার্মিজ সামরিক বাহিনীর কনভয় ল্যান্ডমাইনের কবলে পড়ে। এ সময় একজন কমান্ডারসহ সরকারি বাহিনীর ৩০ সৈন্য নিহত হন।

তিনি আরও জানান, গত রবিবার থেকে আমরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওই কনভয়ের অপেক্ষায় ছিলাম। কারণ সরকারি বাহিনীর একজন সিনিয়র কমান্ডার (অভিযান চালাতে) এ দিকে আসার কথা বলেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিতর্কিত সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত ও ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। ভয়াবহ এই ঘটনার পর দেশটিতে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয় এবং সামরিক ক্ষমতার জোরেই বার্মিজ সেনাবাহিনী তা দমনের চেষ্টা করে।

গেল ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সন সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। রক্তপাতহীন ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। বর্তমানে সু চিসহ তার দল এনএলডির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা গৃহবন্দি বা কারাবন্দি অবস্থারে রয়েছেন।

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকারের হাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১১৬৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাত হাজার দুইশর অধিক মানুষকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সংঘর্ষও সাম্প্রতিক সময়ে চরম আঁকার ধারণ করেছে। এএপিপির তথ্য অনুযায়ী- কেবল গত সেপ্টেম্বর মাসেই পক্ষ দুটির মধ্যে ১৩২টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।