সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২১

পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি ফিড তৈরির অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ সয়াবিন মিলের রপ্তানি বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দুটি পত্রের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘সয়াবিন মিল রপ্তানি অব্যাহত থাকলে এর প্রভাবে ডেইরি ও পোলট্রি খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে ডেইরি ও পোলট্রি খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের প্রাণিসম্পদ সেক্টরে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

মূলত সে কারণেই ডেইরি ও পোলট্রি সেক্টরের স্বার্থ রক্ষার্থে ১৪ অক্টোবর থেকে সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। তবে বুধবার পর্যন্ত যেসব এলসি/টিটি সম্পন্ন হবে উক্ত পণ্য ২০ অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি করা যাবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (এফআইএবি) সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আমরা ধন্যবাদ জানাই, দেরিতে হলেও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য।

এফআইএবি সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান বলেন, সয়াবিন মিল রপ্তানির সিদ্ধান্তে দেশি পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি খাতের অভাবনীয় ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, রপ্তানি বন্ধ হওয়া ও ভারতে সয়াবিন মিলের সংকট কমে যাওয়ায় সয়াবিন মিলের স্থানীয় মূল্য অবশ্যই কমবে বলে আমি আশা করি।

সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধে আপাত এক ধরনের স্বস্তি নেমে এলেও পোলট্রি ও ডেইরি খামারিরা অবশ্য বলছেন, রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয় বরং সয়াবিন মিলের দাম আগের অবস্থায় আনাও অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ফিডের দাম কমবে না। ফলে ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।

সয়াবিন মিলের মূল্য কমানোর জন্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের আবেদন জানিয়েছেন পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি খামারিরা।