কুষ্টিয়ায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উপকৃত পানচাষিরা

প্রকাশিত: মে ২২, ২০২১

কুষ্টিয়ার পানের চাহিদা দেশজুড়ে। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার পান। জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করায় পানের নানা রোগ যেমন কমছে, তেমনি বেড়েছে ফলনও। এতে আয় আগের তুলনায় বেড়েছে কৃষকদের।

পান চাষের জন্য বরাবরই প্রসিদ্ধ কুষ্টিয়া। জেলার সদর, মিরপুর, দৌলতপুর উপজেলায় অর্থকরী এ ফসলের আবাদ হয় বহু বছর ধরেই। তবে পানের রোগবালাইও কম নয়। এত দিন চাষীরা প্রচলিত কীটনাশক ব্যবহার করে বালাই দমন করলেও গোড়া পচনসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হতো অনেক বরজের পান।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণা বিভাগ জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন কুষ্টিয়াসহ চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরের পানচাষিরা।

এক পানচাষি বলেন, ‘কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে আমরা পান চাষ করে উপকৃত হয়েছি এবং ভালো ফলন পাচ্ছি।’

জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে পানের অনেক রোগ-বালাই কমে গেছে। পাশাপাশি বেড়েছে ফলনও। এতে খুশি পানচাষিরা।

আরও এক পানচাষি বলেন, ‘কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে আমাদেরকে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন, সেটা আমরা ব্যবহার করি। এতে ছত্রাক বা পঁচা রোগ থেকে আমরা মুক্তি পাই। বর্তমানে বাজারদর অনেক ভালো পাচ্ছি।’

জৈব বালাইনাশক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও এর ব্যবহার বাড়াতে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তাবায়নের মাধ্যমে যে ২৭টি ফসলের জৈব বালাইনাশক প্রযুক্তির উদ্ভাবন আমরা করেছি সেই প্রযুক্তিগুলো কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে যাবে।’

কৃষি গবেষকরা বলছেন, ট্রাইকোডারমা পাউডার বরজের মাটি ওঠানোর সময় বিঘায় ৮-১০ কেজি করে মাটিতে মেশালে পাতার কালো দাগসহ অন্যান্য ছত্রাক ধ্বংস হয়। একবার ব্যবহার করলে দীর্ঘ দিন কার্যকর থাকে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কুষ্টিয়ার সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহান আল মাহমুদ বলেন, ‘রোগব্যাধী এবং পোকামাকড় নির্মূলে যে গবেষণা করেছি নিরাপদ পান উৎপাদনে এটা কৃষকদের অনেক কাজে লাগছে। আমাদের এই গবেষণা কৃষকদের জন্য সবসময় অব্যহত থাকবে।’

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলায় এবার ২৩৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। বছরে শত কোটি টাকার বেশি পান বিক্রি হচ্ছে এ জেলায়।