শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ালো

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২১
শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি

বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাস মোকাবিলার অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ মে) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক ইদযাত্রা ও করোনার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কোভিড-১৯ জাতীয় পরামর্শ কমিটির সাথে পরামর্শ অনুযায়ী দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী জুনের ১২ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, করেনার মধ্যে স্কুলে ভর্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে সব শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা সম্ভব নয়। অ্যাসাইনমেন্টের মতো নতুন বিষয় আমরা যুক্ত করেছি। অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে সংশয় থাকলেও সবাই এটা ভালোভাবে নিয়েছে। ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অ্যাসাইমেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। ফলে ঝরে পড়ার আশংকা অনেকটা দূর হয়েছে। এটা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। সারাদেশের দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে পেরেছি। তারা যাতে বই পড়ে, তারা যেন অ্যাসাইনমেন্টে অংশগ্রহণ করে…, লকডাউনের মাঝখানে এটা বন্ধ ছিল কিন্তু এখন আবার শুরু হয়েছে।’

টেলিভিশনের ক্লাসের পাশাপাশি স্কুলগুলোতে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। সারাদেশের পাঁচ হাজার শিক্ষককে অনলাইন ক্লাস করানোর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন, ৩০ মার্চ থেকে প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং ২৪ মে থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। মন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ছুটি আরও দুই দফায় বাড়িয়ে ২৯ মে পর্যন্ত করা হয়। সবশেষ বুধবার আরও এক দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির ঘোষণা আসলো।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও যুক্ত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর সৈয়দ গোলাম মো. ফারুক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুরুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. সাজ্জাদুল হাসান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ।