জনশক্তি রপ্তানি: মাঠ পর্যায়ে নেই তদারকি, সক্রিয় দালাল-প্রতারকরা

প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২১

প্রতি বছর বিদেশে যাচ্ছেন বিশাল সংখ্যক কর্মী। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তদারকি না থাকায় ব্যাপকভাবে সক্রিয় দালাল ও প্রতারকরা। নানান কৌশলে ঠকানো হচ্ছে কর্মীদের।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে সরকারি টাস্কফোর্স টিম থাকলেও অভিবাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম তদারকির নেই কোন ব্যবস্থা।

গেলো এপ্রিলে মহাখালী ডিএনসিসি করোনা সেন্টারের সামনে দেখা যায় সৌদিগামী নারী কর্মীদের। বেতন, কর্মঘন্টা কিংবা অনান্য সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে কতটা জেনে বিদেশ যাচ্ছেন নারীরা?

সৌদিগামী এক নারী কর্মী বলেন, ‘আমরা বাসা বাড়ির কাজে যাচ্ছি। আমাদেরকে বলা হয়েছে ২০ হাজার টাকার কথা।’

এসব প্রবাসী নারীকর্মীদের কর্মস্থল কতটা নিরাপদ করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে তা জানতে রোশনি এয়ার ইন্টারন্যাশনাল নামের রিক্রুটিং এজেন্সিতে যায় ডিবিসি নিউজ। তবে বিএমইটিতে দেয়া ঠিকানা অনুসারে পল্টনে গিয়ে দেখা মেলেনি রোশনি এয়ার ইন্টারন্যাশনালের কোন অফিস। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায় রিক্রুটিং এজেন্সির মালিককে।

এজেন্সির মালিক ইসমত আরা থন্দকার মুঠোফোনে বলেন, কর্মী পাঠানোর কথা বলে আমাদের অফিসে কোন ভিসা বেচা কেনা হয়না।আমাদের এখানে শুধু প্রসেসিং হয়।

এর আগে গেল বছর জুলাইয়েও নাম ঠিকানা বিহীন এমন ১৫০ রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম অনুসন্ধানে মাঠে নামে বিএমইটি। বিএমইটির হিসেবে গত জানুয়ারি থেকে ১৮ মে পর্যন্ত ১৭হাজার ৩০০জন গেছেন নারী কর্মী সৌদি আরবে গেছেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এসব কার্যক্রম কখনই তদারকি করা হয় না।

বায়রা সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান জানান, সরকারী বিভিন্ন দপ্তর তাদের দায়িত্ব ভালোমতো পালন করছে কিনা সন্দেহ হয়।

এদিকে ভিসা বাণিজ্যসহ বেশ কিছু অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার দায়ে বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীও। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকেও তদারকির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক আইওএম কর্মকর্তা আসিফ মুনীর বলেন, ‘সরকারের যেহেতু সেখানে কল্যাণ বোর্ডের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ডেস্কও রয়েছে কিন্তু সেখানে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। তাই সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এর গুরুত্বারোপ করতে হবে।’

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রিয় মনিটরিং টিম গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

(ডিবিসি)