ধুমপানে আসক্তি বাড়ছে কিছু ভুল ধারণায় !

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২১

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এটা জেনেও ধূমপানে আসক্ত হয়ে আছেন অনেকেই। ধূমপান ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম কারণ। অনেকেই মনে করেন ধূমপান ছেড়ে দিয়েও কোনো লাভ নেই। কারণ ফুসফুসের যতটুকু ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই গেছে! তবে এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা।

২০০৫ সালে আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ভুল ধারণার জন্য অনেকে ধূমপানের আসক্তি থেকে বের হতে পারেন না। জেনে নিন তামাক এবং ধূমপান সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা, যা দ্রুত বদলে ফেলা সম্ভব-

সিগারেটের একমাত্র ক্ষতিকারক উপাদান হলো নিকোটিন- নিকোটিন হচ্ছে একটি স্পর্শকাতর উপাদান। তবে এটার আরো অনেক ক্ষতিকারক পদার্থ আছে। আমেরিকান ফুসফুস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, সিগারেটে কমপক্ষে ৭ হাজার রাসায়নিক আছে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ৬৯টি কার্সিনোজেনিক উৎপাদন হতে পারে (যেটা ক্যান্সারের জন্য দায়ী উপাদান)।

মানসিক চাপ কমায় ধূমপান- এটিও একটি পুরোপুরি ভুল ধারণা। বিজ্ঞানের মতে, ধূমপান মানসিক চাপ কমায় না বরং বাড়িয়ে দেয়। কারণ ধূমপানের সময় আপনার শরীর নিকোটিন প্রত্যাহার করে। এই প্রত্যাহার উদ্বেগ, চাপকে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে তোলে। এটি সরাসরি আপনাকে প্রভাবিত করে।

মার্কিন জার্নাল অব পাবলিক হেলথের সমীক্ষায় আরো বলা হয়েছে, প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ হালকা সিগারেট খেয়ে ভেবে নেন শরীরের কম ক্ষতি হবে। এই ধারণাটিও ভুল। কারণ সিগারেটে কমপক্ষে ৭ হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে।

আপনি যদি দিনে একটি করেও সিগারেট খান; তাহলেও আপনার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা ভাবেন ধূমপান ত্যাগ করেও কোনো লাভ নেই তাদের জন্য, ঠিক যখনই আপনি সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করবেন ঠিক তখনই আপনার দেহ এবং ফুসফুস আগের ক্ষত সারিয়ে তুলতে আপনাকে সাহায্য করবে। তখন শরীরের রক্তচাপের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে থাকে। কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা ১২ ঘণ্টার মধ্যে কমতে শুরু করে দেয়। স্নায়ুবিক ক্রিয়াকলাপেরও উন্নতি ঘটে। ফুসফুসের কার্যকারিতা ধূমপান ছাড়ার এক সপ্তাহ পরে উন্নত হয়।

আপনি যদি ধূমপান ছেড়ে দেন তাহলে ছেড়ে দেয়ার এক বছরের মধ্যে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেকে কমে আসতে পারে। আর যদি আপনি ১০-১৫ বছর ধরে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন; তবে তামাকজনিত সব ধরনের রোগের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসবে।