ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি দেয়ার হুমকি, গৃহবধূর আত্মহত্যা

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২১

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে অভিযোগ উঠেছে।

ওই গৃহবধূর নাম রুজিনা বেগম (৩৫)। তিনি উপজেলার মৌকরা ইউপির ময়ূরা গ্রামের মৃত. মানিক ড্রাইভারের মেয়ে। বুধবার দুপুরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ বছর পূর্বে রায়কোট উত্তর ইউপির বেতাগাঁও গ্রামের ডুইবা প্রবাসি মনু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় রুজিনার। বিয়ের পর থেকে তার জীবনে নেমে আসে পারিবারিক কলহ। এনিয়ে গত দু’বছর পূর্বে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে আবার গত এক’ বছর পূর্বে তাদের মধ্যে পুনরায় বিয়ে হয়। এরপরে মনু মিয়া প্রবাসে পাড়ি জমাই। প্রায় সময় মনু মিয়া মোবাইল ফোনে রুজিনাকে বিভিন্নভাবে গালমন্দ করত। এর মাধ্যমেও শান্ত হয়নি মনু। সে নিহতের ছোট ভাই ইমরান, তার মাতা মমেনা বেগম ও ছোট বোনের জামাইয়ের ফোনে রুজিনার বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে হুমকি দেয়।

পাশাপাশি এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও ছাড়া হুমকি দেয়। এ অপমানের ভয়ে মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময় সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ বিষয়ে নিহতের মাতা মমেনা বেগম বলেন, তার মেয়ে রুজিনার আপত্তিকর ছবি তার মোবাইল ও ছেলের মোবাইলে পাঠায়। বিভিন্ন গালমন্দ করে। এ ছবি সারাদেশে ছাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। সে ভয়ে রুজিনা আত্মহত্যা করে। তিনি এ হত্যার বিচারের দাবি জানান।

নিহতের ছোট ভাই ইমরান জানান, মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে দুলা ভাইয়ের সাথে তার আপুর ঝগড়া হয়। পরে সে ভাবে এটা তাদের স্বামী স্ত্রী ব্যাপার। এখন ঝগড়া করতেছে পরে ঠিক হয়ে যাবে। এ বলে সে ঘুমিয়ে যায়। রাত ৩.৩০ মিনিটের তার ভাগনি প্রসাব করবে বলে তাকে ঝাগায় আর বলে আম্মু দাড়িয়ে আছে কোন কথা বলে না। দ্রুত সে ওই রুমে গিয়ে দেখে তার বোন গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। সে ঘটনার বিচারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুন নুর জানান, পুলিশ নিহরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নিহতের লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় নিহতের স্বামী মনু মিয়াকে আসামি করে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মধ্যে সঠিক কারণ জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।