সচিবের করোনাক্রান্ত মায়ের সেবায় ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২১

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর মায়ের সেবায় এক উপসচিবসহ ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োজিত করেছেন তিনি। সরকারি চাকরিবিধিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ক্ষমতা খাটিয়ে তিনি রীতিমত চিঠি ইস্যু করে, ২৪ ঘণ্টার দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তবে এমন কর্মকাণ্ডের কথা বেমালুম অস্বীকার করলেন সচিব। সোমবার (২৩ আগস্ট) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

করোনায় বিপর্যস্ত মানুষ। হাসপাতাল-আইসিইউ কিংবা স্বজনের সেবা, সবই যেন আকাশের চাঁদ। ছোঁয়াচে এই মহামারীতে স্বজনদের কাছে না পাওয়ার নজিরও অহরহ। আর হাসপাতাল হলে তো কোন কথাই নেই। স্বজনদের ফেলে চলে যাওয়া কিংবা মা-বাবাকে ফেলে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়।

তবে এমন দৃশ্য বা বাস্তবতা সবার জন্য না। হাসপাতালের আইসিইউতে সার্বক্ষণিক ডিউটিতে থাকছেন সরকারি কর্মকর্তা ও আমলা। তাও আবার এক দুইজন নয়, তিন দিনের জন্য চার শিফটে এক উপসচিবসহ দায়িত্বে থাকছেন ২৪ জন।

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের করোনা ইউনিটে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মায়ের সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত আছেন এসব কর্মকর্তা। চিঠি ইস্যু করে তাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। যাদের ২৪ ঘণ্টাই থাকতে হচ্ছে হাসপাতালে করোনা ইউনিটে।

সচিবের নির্দেশনায় দেখা যায়, এই ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব সমন্বয় করছেন, সচিবের একান্ত সচিব আজিজুল ইসলাম। কার দায়িত্ব কি হবে এজন্য দেয়া হয়েছে বিশাল ফর্দ।

নির্দেশনায় বলা হয়, সচিবের মায়ের সার্বিক অবস্থা সার্বক্ষণিক জানাতে হবে পিএসকে, চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ, টেস্ট করানোর ও তা দ্রুত সংগ্রহ করা এবং হোয়াটঅ্যাপে সচিবের পিএসকে রিপোর্টের কপি পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকতে হবে রোগীর কাছাকাছি, রোগীর এটেন্ডেনের কাছে জানান দিতে হবে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি।

এসব তথ্যের সত্যতা মিললো জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের করোনা ইউনিটের সামনে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুই জন স্বীকার করলেন, সচিবের মায়ের যেকোনো দরকারে ছয়ঘণ্টা সেখানে ডিউটি করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে হাসপাতালের চিত্র ও আদেশের বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তা অসম্ভব বলে উড়িয়ে দেন। যদিও সচিবই সেই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন।