রেলওয়ের দুরবস্থা: জাদুঘরে রাখার মতো ইঞ্জিন দিয়ে কেন ট্রেন চলছে

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২১

জরাজীর্ণ ও বারবার মেরামতের প্রয়োজন হওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনের ওপর নির্ভর করে যে পরিবহন সেবা চলে, সেই পরিবহন সেবা আর যাই হোক, মানসম্মত নয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তালিকায় থাকা ২৬৩টি লোকোমোটিভের ৬৭ শতাংশই পুরনো। এগুলোর মধ্যে ৭৮টি আবার অর্ধশতকেরও বেশি পুরনো। রেলওয়ের বগি টানার কাজে ব্যবহার না করে, এগুলোকে বরং জাদুঘরে রেখে দেওয়া উচিত। এ অবস্থাকে আসলে হতাশাজনক বললেও কম বলা হয়।

একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও সস্তা হওয়ার কারণে কিছুদিন আগেও গণপরিবহনের মধ্যে রেলওয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল। এখন বিশ্বাস করা কঠিন হলেও সত্যি, সময়নিষ্ঠতার জন্যও এক সময় সুনাম ছিল রেলের। কিন্তু, এখন এসব কথা রূপকথার মতো শোনায়। জরাজীর্ণ লোকোমোটিভের কারণে তৈরি হওয়া ভঙ্গুর অবস্থা এবং দুর্ঘটনার কারণে রেল সেবা যে আরও ঘন ঘন ব্যাঘাতের মুখোমুখি হবে, এটি আশ্চর্য হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়।

দুঃখের বিষয়, প্রতি বছর রেল খাতে লোকসানের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দুই বছরে এ লোকসান দ্বিগুণ হয়েছে। আর পুরনো ইঞ্জিনগুলোতে শুধু খরচই হচ্ছে, লাভ হচ্ছে না কোনো। এগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পুরো ব্যবসাটিকেই অলাভজনক করে তুলছে।

রেলওয়ে পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই গুরুতর কিছু ভুল আছে। প্রায় ১০ বছর আগে যখন রেলের জন্য একটি নতুন ও পৃথক মন্ত্রণালয় তৈরি হলো, তখন থেকে আরও ভালো সেবা পাওয়ার কথা ভেবেছিল মানুষ। কিন্তু, বিনিয়োগের বিপরীতে সেবার মানের যে অবস্থা, তা কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

গত কয়েক বছরে অবশ্য এ খাতে যথেষ্ট অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। নতুন ট্র্যাক হয়েছে। নতুন ট্রেনও যোগ করা হয়েছে। কিন্তু, যাত্রী সেবার মান এবং সময়ানুবর্তিতার কোনো উন্নতি ঘটেনি।

আমরা বিশ্বাস করি, রেলের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। কর্তৃপক্ষের মনে রাখা উচিত, রেলপথ শুধু দেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, এটি সমন্বিত আঞ্চলিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আমরা বুঝতে পারছি, সরকার রামু হয়ে ঘুমধুমের মাধ্যমে মিয়ানমার, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ রেললাইনগুলো আপগ্রেড করার পরিকল্পনা করছে। আগের আপগ্রেডেশন কাজগুলোও শুধু রেলওয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ ছিল।

যাই হোক, আমাদের বিশ্বাস, আরও ভালো যাত্রীবাহী ওয়াগন ও লোকোমোটিভ অন্তর্ভুক্ত করে যাতায়াত সুবিধা উন্নত করতে রেল মন্ত্রণালয়ের একযোগে ও আনুপাতিকভাবে বিনিয়োগ করা উচিত। শুধু তখনই মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করতে আগ্রহী হবে, যখন তারা সেখানে তাদের অর্থ ও সময়ের মূল্য পাবে। আর রেলওয়েও শুধু তখনই লাভের মুখ দেখার আশা করতে পারবে।