রাতেও উড়ছে জাতীয় পতাকা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। যদিও এ নিয়ম ভঙ্গ করতে দেখা গেছে ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের ২৪ নং দক্ষিণ পশ্চিম শিবপুর শরীফ সরদার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাতে উড়তে দেখা গেছে জাতীয় পতাকা। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় সরজমিনে ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের ২৪ নং দক্ষিণ পশ্চিম শিবপুর শরীফ সরদার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

২৪ নং দক্ষিণ পশ্চিম শিবপুর শরীফ সরদার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাইনউদ্দিন বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা পেয়েছি। এই পতাকার অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না। স্কুল টাইমের বাইরে পতাকা উত্তোলনটি আমি ভালোভাবে দেখছি না। আমি শিক্ষকদের বলে দেবো আগামীতে যেন এ ভুল না হয়।

ভোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব আদিল হোসেন তপু বলেন, দেশবিরোধী একটি চক্র সবসময় আমাদের লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা অবমাননা করায় লিপ্ত রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে যারা নির্দিষ্ট সময়ে পতাকা না নামিয়ে রাতের আধারে উত্তোলন করেছেন তারা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত কি না তা তদন্ত করে বের করা উচিত। জাতীয় পতাকা একটি দেশের স্বাধীনতার প্রতীক। এই পতাকার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।

ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা এম এ তাহের বলেন, জাতীয় পতাকার অবমাননার করার অর্থ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা। স্বাধীন বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। শিক্ষকরা যদি জাতীয় পতাকার সম্মান নষ্ট করেন তাহলে তাদের কাছ থেকে নতুন প্রজন্ম কী শিখবে?

তিনি বলেন, যদি বিরোধী কোনো চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে পতাকার অবমাননা করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমি অসুস্থ থাকার কারণে স্কুল থেকে একটু আগে বের হয়ে গেছি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পতাকা নামাতে মনে নেই। এ ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। আজ পর্যন্ত এ রকম ভুল কখনো হয়নি। ভবিষ্যতে আর এমন ভুল হবে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উড়ানোর নিয়ম রয়েছে। রাতে বিদ্যালয়ে পতাকা উড়ার বিষয়টি অবমাননার সামিল। জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আইন ভঙ্গ করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।