ইনানী সৈকতে অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক দোকান নির্মাণ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে সরকারি জমিতে ৫৩টি দোকান নির্মাণ করে প্রতি বছর অর্ধকোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সরকারিভাবে ইজারা না হলেও দোকানপ্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে ওই সিন্ডিকেটটি। যার ফলে সরকার বছরের পর বছর বিশাল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে কোরাল পাথরের ইনানী সি-বিচ অবস্থিত। এই বিচে নামার রাস্তায় উভয় পাশে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক দোকান। দোকানগুলোতে আকর্ষণীয় বিভিন্ন পণ্যের সমাহার থাকায় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যস্ততম ইনানী সৈকতের নিচের দিকে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ২২ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে। তবে ৫৩টি দোকান এখনো ইজারার আওতায় আসেনি। অথচ সিন্ডিকেট সদস্যরা এসব দোকান ভাড়া, উপ-ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এদের মধ্যে ছোট ইনানীর মোহাম্মদ হোছনের ছেলে নাজির হোছনের ৫টি দোকান রয়েছে। হোছনের পরিবারের সদস্যরা ভোগ করছে আরও ৫টি দোকান। ছৈয়দ কাশেমের ছেলে বেলালের রয়েছে ৩টি, শাহ আলমের ছেলে শাহ জাহানের ২টি দোকান। এছাড়া হোছনের ছেলে আজিজ উল্লাহ, মৃত জাফরের ছেলে আজিম আলীসহ অনেকের এখানে দোকানের মালিকানা রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ বক্সের পশ্চিম পাশে মো. বশির ও মাহমুদুল হক রাতের আঁধারে দোকান নির্মাণ করেছেন।

এ ব্যাপারে ইনানী সি-বিচ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি নাজির হোছন জানিয়েছেন, এটা সরকারি জায়গা। বিচে গাড়ি পার্কিং ইজারা হয়েছে। ৫৩টি দোকান ইজারার আওতায় আসেনি। সরকারিভাবে দোকান নির্মাণ করে চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় কিংবা ইজারা দিলে প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের রাজস্ব পাবে সরকার। এখানে আমারও দোকান রয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের নামেও দোকান থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির (বিএমসি) সদস্য মো. বেলাল বলেন, ইনানী বিচে বাঁশগাছের তৈরি যে দোকানগুলো রয়েছে সেখানে আমার নামে কোনো দোকান নেই। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ছৈয়দ হোসাইন নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করায় দোকানগুলো সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়নি। ইজারা কিংবা খাস কালেকশনও হচ্ছে না। এর আগে প্রশাসন দোকানগুলো ভেঙে দিয়েছিল। যা পরে আবারও তৈরি করা হয়েছে। তিনি বিস্তারিত জানার জন্য ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সদস্য নন। তিনি বলেন, ইনানী সি-বিচে কোনো স্থাপনা করা যাবে না মর্মে একটি রুল জারি আছে। দোকানগুলো থেকে খাস কালেকশন করা হয় না বলেও তিনি স্বীকার করেন।